Ticker

6/recent/ticker-posts

শেষ হলো সাকিব আল হাসান এর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা। Finished Shakib al hasan ban.

 

Shakib al hasan banned

অবশেষে শেষ হলো সাকিব আল হাসান এর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা।

ক্রিকফেঞ্চি ডেস্কঃ 

সাকিব আল হাসান। বাংলার মানুষের প্রান।যিনি বাংলাদেশ কে তুলে নিয়েছেন দুনিয়ার অনন্য এক পর্যায়ে।

কিন্তু এইতো দুই বছর আগের কথা।ম্যাচ পাতানোর অফার পেয়ে নাকচ করার খবর টা আইসিসিকে না জানানোয় পেয়েছিলেন দুই বছর এর নিষেধাজ্ঞা। তবে এক বছর তাকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখা হয়ছিলো বাকি এক বছর পর্যবেক্ষণে।

অবশেষে শেষ হয় সাকিব আল হাসান এর জীবনের কলংকিত দুই বছর।

ক্রিকফেঞ্চি টিম এর আবেগময়ী রিপোর্টঃ
|| দুঃসহ কালো সেই রাত || আফফান উসামা 

রাত তখন তিনটে বেজে কয়েক মিনিট। আকাশটা মায়াবী চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় বেশ মোহনীয়। শীতের আগমনী বার্তায় ঝিমঝিম খানিকটা ঠান্ডা তাই দেহে অনুভূতিত হচ্ছে। সামান্য সময় চাঁদ-আলো গায়ে মেখে কাঁথা মুড়ি দিয়ে তাই শুয়ে আছি বিছানা বুকে। হঠাৎই কি মনে করে ফোনটা হাতে নিয়েই হতবিহ্বল হয়ে যাই মুহুর্তক্ষণে! দৈনিক সমকাল এটা কি ছেপেছে? কি লিখেছেন এসব আলী সেকান্দার?

মনটা আঁতকে উঠল। ধোঁয়া যখন উঠেছে, আগুন তো কোথাও লেগেছে... ঘটনার পুরোটা বুঝতে না পারলেও, জানতে পেরেছি খানিকটা হলেও সত্যতা আছে তাঁর। রাতটাও ক্রমশ ফুরিয়ে যাচ্ছে, পূর্বাকাশে প্রভাতের আভা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু আমি নির্ঘূম-নিদ্রাহীন, এমন উদ্বেগ বুকে কি ঘুমানো যায়? সকাল হতে হতে পুরো নিউজফিডটা ভরপুর দৈনিক সমকালের টুকরো একখানা ছবিতে... যাতে মোটা কালিতে লিখা — “১৮ মাস নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাকিব„
জুয়াড়িদের প্রস্তাব গোপন রাখার অভিযোগ আইসিসিতে প্রমাণিত !

বাংলার সর্বশেষ নবাব বেঁচে থাকলে হয়তো আজ আবারও বলতেন পলাশী চত্বরের সেই ইতিহাস জড়ানো বাণীখান। অশ্রুস্নাত কন্ঠে হয়তো প্রতিধ্বনিত হতো আবারও সেই অসহায়ত্ব সুর... “বাংলার আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা। কে তাকে আশা দেবে, কে তাকে ভরসা দেবে। এমন কেউ কি আছে, যে বলবে আশা নয় দূর আশা।„

যাহোক, ভঙ্গ হৃদে, উদ্বেগ বুকে আপন মহিমায় বেলার বিদায়ে আগমন হয় বিষন্ন কালো সন্ধ্যার। দিনটা শুধুই বিষন্ন ছিলোনা, ছিলো লোম দাঁড়ানো উত্তেজনায় শিহরণ জাগানো উদ্বেগের। পলকহীন চোখে সবে তাকিয়ে ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন দেখা সেই জোড়ো চোখ পানে। যদি একবার ওই দুটো চোখ ভিন্ন কিছুর বার্তা দিতো, বলতো এই সবই ষড়যন্ত্রের অংশ... কি হতো বাংলার বুকে, বলা লাগবে কি আরও?  

আপোষহীন বাঙালী সম্প্রদায় চিরকাল রক্তগরম। অধিকার আদায়ে কিংবা ভালোবাসার প্রমাণ রাখতে রাজপথ কাঁপাতে, প্রয়োজনে রক্ত ঢালতেও দ্বিধা রাখেনা ওরা বুকে। সেদিনও বার বার সাকিব ঘনিষ্ঠ জন হতে নিষেধ করা সত্বেও গর্জে উঠেছিলো ওরা, গরম হয়ে উঠেছিলো মিরপুরের আবহাওয়া। স্লোগানে স্লোগানে, সাকিব সমর্থনে উত্তাল চারিপাশ; খবরটা যে মানতে পারছেন কোন মন, করছে হাসফাস। 

আকাশে চাঁদ আছে, তারকারাজিও আপন মনে খেলা করছে...কিন্তু তবুও কেনো যেনো সেই সন্ধ্যাটা একটু বেশীই অন্ধকার। মুদি দোকান সম্মুখ চত্বর আজ লোকারণ্য, গ্রামের হাট বাজারে ভিড়। ব্যস্ত নগরী থমকে আছে অজানা এক শঙ্কায়। কি হবে হায়? যে যেখানেই আছে, উদ্বিগ্ন মনে, ভঙ্গ হৃদে তাকিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদ মিডিয়ায়। খানিক আগে যে খবর এসেছে স্বয়ং সাকিব কথা বলবেন মিডিয়া সম্মুখে। 

সময় বহমান, হারায় প্রতি ক্ষণ। কিন্তু ফুরোয়না অপেক্ষার প্রহর। কখন আসবেন সাকিব? বলবেন সব কিছুই মিথ্যে... যাহোক, অবশেষে অবসান হলো তার। সাকিব আসলেন মিরপুরে, চলে গেলেন বিসিবির কার্যালয়ে। আর যখন ফিরলেন...কি বলবো আর, সাকিবের ওই ফোলা-ফাপা অশ্রুসিক্ত চোখ কে কবে আর কখন দেখেছে আর। বুঝাই যাচ্ছিলো ভেতরের অশ্রুস্রোত দমিয়ে রাখতে মনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত-ভার তিনি।

কথা বলতে শুরু করলেন তিনি। তাঁর বলা বক্তব্যে খানিকটা আশাহত হলেও কেউ বিশ্বাস হারায়নি। তাঁর অশ্রুস্নাত সেই চোখ পানে তাকিয়ে তখন প্রবল সমালোচকও তখন কেঁদে ফেলতে বাধ্য। সেই মুহুর্তে দেখা প্রতিটি চোখও যেন তাই বলছে। পেশাদারীত্বের উর্দ্ধে গিয়ে কেঁদে ফেললেন অনেক সংবাদকর্মীও। যাহোক, ভুলটা স্বীকার করলেন, স্বীকার করলেন স্বীয় দায়িত্বশীলতা। শাস্তিটাও নিলেন মাথা পেতে। 

কিন্তু সেই মুহূর্তে সাকিবকে অবলোকন করা প্রতিটি চোখ যেমন তাঁর অশ্রুস্নাত ফোলা-ফাঁপা চোখ জোড়া দেখেছে, দেখেছে তাঁর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ অন্তর। খালি চোখে দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো কি চলছিলো তখন সাকিব স্পন্দনে। বুঝাই যাচ্ছিলো তাঁর হৃদয় তখন পাঠ করছিলো এক শপথ বাক্য... বলছিলো আমি ফিরবো, আমাকে ফিরতেই হবে। ফিরতে হবে লাল-সবুজের এই দেশটার জন্য, এদেশের মানুষের জন্য। আবারো গাইবো গান, ফিরিয়ে দেবো স্বপ্ন প্রতি চোখে।  

অতঃপর ছুটলেন গাড়ির দিকে। অন্য সময় হলে হয়তো সংবাদকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরতেন, একটা কথা শুনার জন্য ছুটে যেতেন। কিন্তু সেদিন তাঁরাই বের হবার পথটা করে দিলেন, ক'জন অবশ্য কিছু একটা বললেও বাকীরা তখনও নিস্তব্ধ, নির্বাক! নিরবতা ভাঙলেন সাকিবই, ভেজা কন্ঠে প্রতিধ্বনিত হলো শুধুই ‘পাপন ভাই আমি গেলাম‚। সেই যে গেলেন... অতঃপর ফিরলেন বছরটা পেরিয়ে, স্বীয় মন্দিরে।  

একটা বছর দূরে থেকেও যেন দূরে ছিলেন না। অনুভবে কিংবা অভাবে বার বার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্মৃতির দোলাচালে মনের আল্পনায় ভেসে উঠেছেন নিজের অজানায়। গুরুজনেরা কি শুধুই বলেন ‘দাঁত থাকলে দাঁতের মর্যাদা বুঝা যায় না’। তেমনি তিনি না থাকা কালে বুঝা গেছে তাঁর প্রখরতা। বুঝা গেছে বাংলার ক্রিকেটে তিনি কি আর কে, কি তাঁর ভূমিকা। এ যেন প্রেমিকের সেই আক্ষেপ ঝরা অভিমান, ‘যখন আমি থাকব না, তখন বুঝবে কতোটা ভালোবাসি তোমায়।' 

হয়তো মাঠে নামতে পারেননি, গড়তে পারেননি নতুন কীর্তিগাঁথা, ইতিহাস। ভাগ্য বিপাকে রাজত্ব হারিয়েছেন, ছেড়েছেন সিংহাসন, সাথে বিশ্বসেরার রাজ মুকুটটাও। কিন্তু ছিলেন ১৬ কোটি মানুষের প্রাণে-হৃদে-স্পন্দনে৷ প্রতিটি দিন গননা করে প্রতিক্ষণে তাঁর অপেক্ষায় থেকেছে সাকিব প্রিয় প্রাণেরা। ছবিতে,গল্পতে, লিখনিতে যে যখন যেভাবে পেরেছে ফুঁটিয়ে তুলেছে তার ভালোবাসা; কেউ বা আবার লিখেছে কাব্য-কথা। তবে দিনশেষে অনুভবে তুমিহীন শূন্যতা! 

শূন্যতা তবুও খানিকটা থামিয়েছে করোনার থাবা। যদি বলি সাকিবহীন বাইশগজ প্রভু দেখতে চায়নি, তবে তা হবে রসিকতা, মূর্খতা আর বাড়াবাড়িও বটে। বিধাতা কখন কি চান, তা শুধুই তাঁর একান্ত নিয়ন্ত্রণে। তা যাহোক, একটা বছর হলো সাকিব ফিরেছেন দুঃখ ঘুচিয়ে, আলোর দিশা নিয়ে। সেই সাথে গত রাতে শেষ হলো স্থগিত শাস্তির নীরব কালো সময়টা। ফলে সাকিব এখন মুক্ত পাখি, এখন শুধু উঁড়ার অপেক্ষা। 

গত বছর ফেরার কালে লিখেছিলাম—
এবার নিশ্চয়ই দৈনিক সমকাল তাঁর ফেরার সুসংবাদ দিবে, আলী সেকান্দার তার প্রত্যাবর্তন গল্প লিখবে। হয়তো লিখবে- “হে রাজা! আপনার রাজ্যে আপনাকে স্বাগতম। এই রাজত্ব শুধুই আপনার। আপনার তরেই রাজ সিংহাসন শোভা পায়, আপনার শিরেই রাজ মুকুট তার পূর্ণ সৌন্দর্যতা ফিরে পায়„ 

আর এবার লিখতে চাই- ‘সাকিব আপনি ফিরে আসুন, ফিরে আসুন স্ব-মহিমায়। নড়বড়ে আপনাতে যে কোটি ভক্ত মনে কম্পন উঠে, ব্যথায় নীল হয় প্রাণ। মনে বড় ইচ্ছে করে আপনাকে দেখতে সেই ১৯' বিশ্বকাপের ভূমিকায়। জানি প্রতিদিন সম্ভব নয়, কিন্তু স্বপ্নকে কে বুঝায়? আমাদের মতো কোটি ভক্তের স্বপ্ন সারথি হয়ে প্রিয় আপনি জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে'।

Post a Comment

0 Comments