Ticker

6/recent/ticker-posts

বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান | Top 10 businessman in bangladesh.

 বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, Top 10 businessman in bangladesh

ধনী ১০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

হ্যালো বন্ধুরা আজকের পর্বে আমরা আপনাদের দেখাবো বাংলাদেশের শীর্ষ 10 ধনী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ীদের জীবন যাপন। যাদের উপর নির্ভর করে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং অবনতি। আর মজার ব্যাপারটি হচ্ছে এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই কিন্তু পরিবারকেন্দ্রিক অর্থাৎ দেশের কয়েকটা পরিবারের হাতে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং অবনতি নির্ভর করে। আজকের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে ধারনা টা পাল্টে যাবে। তো বন্ধুরা পোস্টটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। তো চলুন শুরু করা যাক।

 নাম্বার-১০  ( সিটি গ্রুপ)

এ কোম্পানিটির যাত্রা শুরু হয়েছিল সরিষার তেল তৈরির কারখানা দিয়ে। আর তারা এখন বাংলাদেশের শীর্ষ 10 ধনী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি। আপনারা সব সময়ই সিটি গ্রুপের কোনো না কোনো পণ্য অবশ্যই ব্যবহার করেছেন।

যেমন তীর সরিষার তেল, আটা, ময়দা, সুজি এসবই সিটি গ্রুপের পণ্য। যাত্রাবাড়ীর আজগর আলী হাসপাতালও এই গ্রুপের। স্বাধীনতার পর 1972 সালে ব্যবসায়ী ফজলুল হক। সি টি ওয়ার্ল্ড নিউজ প্রতিষ্ঠা করেছিল। আর ছোট একটি অয়েল মিলস থেকেই যাত্রা শুরু হয়।বাংলাদেশের শীর্ষ ধনী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম।  সিটি গ্রুপের 10 হাজারেরও বেশি কর্মচারী আছে সিটি গ্রুপের। প্রতি বছর 100 কোটিরও বেশি টাকা মুনাফা অর্জন করে সিটি গ্রুপ।

 নাম্বার-৯ ( ইউনাইটেড গ্রুপ) 

1978 সালের কয়েক বন্ধু মিলে ধার করে টাকা জমিয়ে খুলেছিল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার নাম দেয়া হয়েছিল ইউনাইটেড গ্রুপ। শূন্য থেকে শুরু করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি কাজে গিয়েছে অনেক দূরে। ইউনাইটেড হাসপাতাল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সবকিছু। ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক তারা। শিক্ষা, চিকিৎসা ছাড়াও রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল, থেকে শুরু করে বেসরকারি বন্দর,লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম ব্যবসার সাথে জড়িত। ইউনাইটেড গ্রুপ তাদের সর্ব মোট সম্পত্তির মূল্য প্রায় 30 হাজার কোটি টাকারও বেশি।

 নাম্বার-৮(বেক্সিমকো গ্রুপ) 

সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ আছে ৮ নম্বরে। সালমান এফ রহমান যখন যেখানে যান হেলিকপ্টার নিয়ে যান। বাংলাদেশের বাজারের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এই কোম্পানির। এই মূলত ঔষধের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেছিল। বেক্সিমকো এখন ওষুধের বাইরে গার্মেন্টস, আবাসন, মিডিয়া সহ আরো নানা রকম ব্যবসার সাথে জড়িত তারা। ১০৩ টি দেশে রপ্তানি হয় বেক্সিমকোর পণ্য। আইএফআইসি ব্যাংক, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন এবং বিপিএল এর অন্যতম দল ঢাকা ডায়নামাইটস সহ আরো শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক বেক্সিমকো। প্রতিদিন ৬৫ হাজার কর্মী কাজ করে তাদের অধীনে। বেক্সিমকো'র মোট সম্পত্তির পরিমাণ দেড় বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

 নাম্বার-৭( আকিজ গ্রুপ)

 সামান্য একটা বিড়ির কোম্পানি থেকে যাত্রা শুরু হয় আকিজ গ্রুপের। বাংলাদেশ সরকারকে সবচেয়ে বেশি কর তারাই দেয়। 1940 সালে তামাক দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে টেক্সটাইল, তামা, সিরামিক, পেইন্টিং, ঔষধ আরো অনেক খাতে ব্যবসা করে যাচ্ছে আকিজ গ্রুপ। বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বেশি আয় হয় আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ থেকে। মজো,স্পিড আরো অনেক পন্য রয়েছে তাদের। 70 হাজারের বেশি কর্মচারী কাজ করে আকিজ গ্রুপে। তারা কয়েক বার বাংলাদেশের শীর্ষ করদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। 

নাম্বার-৬( টি কে গ্রুপ)

পুষ্টি সয়াবিন তেল বিক্রি করে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল টিকে গ্রুপ।1950 সালে পাকিস্তান আমলে শুরু হওয়া এ প্রতিষ্ঠান। আছে জাহাজ ভাঙ্গার কারখানা, ইসটিলমিল, চা বাগান, জাহাজ ব্যবসা সহ আরো নানা রকমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 30 হাজারেরও বেশি কর্মচারী কাজ করে এ টিকে গ্রুপে। প্রতিবছর প্রায় 250 কোটি টাকা আয় করে টিকে গ্রুপ।

নাম্বার-৫(স্কয়ার গ্রুপ)

স্কয়ার গ্রুপের নাম শোনেননি এমন মানুষ বাংলাদেশের খুঁজে পাওয়া যাবে না।স্কয়ার কোম্পানিতে রয়েছে স্কয়ার ফার্মা, মাছরাঙ্গা টেলিভিশন সহ আরও অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্যামসাং এস চৌধুরী হাতে যাত্রা শুরু হয় স্কয়ার গ্রুপের। মোটামুটি শূন্যহাতে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। 30 হাজারেরও বেশি কর্মচারী কাজ করে স্কয়ার গ্রুপে।

নাম্বার-৪( যমুনা গ্রুপ)

 যমুনা গ্রুপে রয়েছে যমুনা ফিউচার পার্ক, যমুনা ব্রিজ, যমুনা ফ্যান, যমুনা টেলিভিশন, যমুনা বাইক আরো নানারকম ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নুরুল ইসলাম নাহিদের হাতর গড়া যমুনা গ্রুপও দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এই যমুনা গ্রুপের। যমুনা দেশের শীর্ষ করদাতা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে কয়েকবার।

 নাম্বার-৩(মেঘনা গ্রুপ)

 জনগণের দিক থেকে মেঘনা গ্রপ দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। রাসায়নিক কারখানা, সিমেন্ট, সাইকেল ইত্যাদি তৈরি করে থাকে মেঘনা গ্রুপ। বাংলাদেশে মোট 50 টিরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কারখানা রয়েছে মেঘনা গ্রুপের। এই মেঘনা গ্রুপ প্রতিবছর 150 কোটি টাকারও বেশি টাকা আয় করে থাকে এবং প্রায় 1 লক্ষ মানুষ কাজ করে এই মেঘনা গ্রুপে।

 নাম্বার-২(বসুন্ধরা গ্রুপ)

আপনারা অনেকেই হয়তো অধিক আগ্রহে বসে আছেন কখন আসবে বসুন্ধরা গ্রুপের নাম। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হল বসুন্ধরা গ্রুপ। এদেশে বসুন্ধরা গ্রুপ যা করেছে তার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান করতে পারেনি। বসুন্ধরা গ্রুপের তৈরি বসুন্ধরা সিটি তো আমাদের দেশের শপিং মলের ধারনাই পাল্টে দিয়েছে। এই বসুন্ধরা গ্রুপে রয়েছে অনেকগুলো টিভি চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়া, খাবার, টয়লেট টিস্যু, পেপার, এলপিজি গ্যাস, কনভেনশন সেন্টার সহ আরো নানা রকম ব্যবসা। এই গ্রুপের বর্তমান এমডি সিয়ামকে তো আপনারা সকলেই চিনেন। তিনি সরকারকে অনেক বেশি ট্যাক্স দিয়ে থাকে তাই তাকে সবাই সরকারের লোক বলে চেনে।

নাম্বার-১(একে খান এন্ড কোম্পানী লিমিটেড)

বন্ধুরা আপনি হয়তো ভেবেছেন বসুন্ধরা গ্রুপ অথবা বেক্সিমকো বাংলাদেশের এক নম্বর শিল্প প্রতিষ্ঠান। আসলে তা নয়। বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হলো একে খান এন্ড কোম্পানী লিমিটেড। চট্টগ্রাম ভিত্তিক এই ব্যবসা। প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু হয়েছিল 1945 সালে আবুল কাশেম খান একে খান এন্ড কোম্পানি  লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। আর তার নামেই কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে। টায়ারের ব্যবসা থেকে যাত্রা শুরু করলেও তারা রাবার,চা, ম্যাচ ফ্যাক্টরি, টেলিকম ইত্যাদি আরো নানারকম খাতে ব্যবসা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ও তাদের তৈরি।তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার।

তো বন্ধুরা পোস্টটি কেমন লাগলো?ভাল লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে একদমেই ভূলবেন না। আর এ রকম সব জানা অজানা তথ্য জানতে আমাদের ওয়েব সাইট clickoffice.club এর বাকি পোস্টগুলোও পড়ে আসতে পারেন। সবাই ভাল তাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Post a Comment

0 Comments